খোশবাস , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

করোনায় গণপরিবহন বন্ধে বিপাকে চালক-শ্রমিকরা

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ২৬ মার্চ থেকে দেশের সকল গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে সরকারি এ সিদ্ধান্ত মেনে হবিগঞ্জের মাধবপুরে পরিবহণ শ্রমিকরাও তাদের গাড়ি বন্ধ রেখেছেন তবে গাড়ির চাকা বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপাকে পড়েছেন মাধবপুর‌ উপজেলায় কয়েক হাজারের মতো পরিবহন শ্রমিক প্রথম দিকে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী (৫-মে) পর্যন্ত বন্ধ ছিল গণপরিবহন পরে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় চার দফা বাড়িয়ে ছুটি (১৬-মে) পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়।

এদিকে ছুটির মেয়াদ যতই বাড়ছে ততই খাদ্য সংকটে পড়ছেন শ্রমিকরা প্রথমদিকে খাদ্য সহায়তা পেলেও বর্তমানে তাও মিলছে না এতে করে পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন মাধবপুর উপজেলার শ্রমিকরা

তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে, সিএনজি অটোরিকশা ও অন্যান্য পরিবহন শ্রমিকদের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে এ ছাড়া সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১০০ শ্রমিককে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে পর্যায়ক্রমে হয়তো আরও শ্রমিকদের সহায়তা দেওয়া হবে।

তবে শ্রমিকরা, বুধবার (১৩-মে) সকালে গণমাধ্যমকমী লিটন পাঠান কে জানান, মাধবপুর মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নে (রেজিস্ট্রেশন নং- ১৪৪০) সদস্যই আছেন ৩৫০ জন এর বাইরে এ কাজে সম্পৃক্ত শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫০০ এর বাইরেও মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন গাড়ি আরও কয়েক হাজার শ্রমিক রয়েছেন তাদের বেশিরভাগই নিত্য রোজগার করে সংসার চালান কিন্তু বর্তমানে গাড়ির চাকা বন্ধ থাকায় বন্ধ হয়ে যায় আয়ের পথ অথচ এ আয় দিয়েই বেশিরভাগ শ্রমিকের ঘরের চুলায় আগুন জ্বলে।

মাধবপুর মাইক্রোবাস সমিতির সাবেক সভাপতি রিপন মিয়া বলেন শ্রমিকের বিরাট অংশ পরিবহন বন্ধ থাকায় আজ অভুক্ত থাকছে আমাদের প্রায় ৩৫০ সদস্যসহ খেটে খাওয়া এ শ্রমিকদের বরাদ্দের জন্য আমাদের বর্তমান সভাপতি মোঃ মাসুম চৌধুরী এবং সকলের মতে উপজেলা প্রশাসন বরাবর আমরা আবেদন করতে যাচ্ছি করোনার প্রভাব শুরু হওয়া পর্যন্ত আমাদের শ্রমিক ভাইদের এখনও কোনো সহযোগিতা করা হয়নি আমরা আশা করি বাংলাদেশ সরকার শ্রমিকদের সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে দেবে।

মাধবপুর মাইক্রোবাস সমিতির সম্পাদক রোমান মিয়া বলেন, বর্তমানে জরুরি অবস্থায় দেশজুড়ে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে এখন ঘরে বসেই শ্রমিকরা দিন কাটাতে হচ্ছে সরকারি নির্দেশে ও দেশের প্রয়োজনে ঘরে থাকতে গিয়ে শ্রমিকরা কর্মহীন হওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে শ্রমিকরা আজ খাদ্যসামগ্রী সহায়তার আশায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দিকে তাকিয়ে আছেন।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসনুভা নাশতারান বলেন আমরা সম্প্রতি উপজেলার ১০০ শ্রমিককে খাদ্য সহায়তা দিয়েছি যদি আমাদের কাছে কেউ খাদ্য সহায়তার জন্য আবেদন করেন তাহলে আমরা তাদেরকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব কারণ বিচ্ছিন্নভাবে খাদ্য সহায়তা দিলে দেখা যায় একজন কয়েকবার পায় আর কেউ একেবারেই পাচ্ছে না তিনি আরও বলেন আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা শ্রমিকদের তালিকা করে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছেন এ ছাড়াও বিভিন্ন ভাবে শ্রমিকদের সহায়তা করা হচ্ছে।

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

অনলাইন জরিপ

চামড়াশিল্পের চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে মনে করেন কি?

ফলাফল দেখুন

Loading ... Loading ...

খালে ভাসমান বস্তায় মানুষের মরদেহ আছে বলে প্রচার, খুলে দেখা গেলো কুকুর

করোনায় গণপরিবহন বন্ধে বিপাকে চালক-শ্রমিকরা

প্রকাশিতঃ ০৮:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২০

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ২৬ মার্চ থেকে দেশের সকল গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে সরকারি এ সিদ্ধান্ত মেনে হবিগঞ্জের মাধবপুরে পরিবহণ শ্রমিকরাও তাদের গাড়ি বন্ধ রেখেছেন তবে গাড়ির চাকা বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপাকে পড়েছেন মাধবপুর‌ উপজেলায় কয়েক হাজারের মতো পরিবহন শ্রমিক প্রথম দিকে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী (৫-মে) পর্যন্ত বন্ধ ছিল গণপরিবহন পরে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় চার দফা বাড়িয়ে ছুটি (১৬-মে) পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়।

এদিকে ছুটির মেয়াদ যতই বাড়ছে ততই খাদ্য সংকটে পড়ছেন শ্রমিকরা প্রথমদিকে খাদ্য সহায়তা পেলেও বর্তমানে তাও মিলছে না এতে করে পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন মাধবপুর উপজেলার শ্রমিকরা

তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে, সিএনজি অটোরিকশা ও অন্যান্য পরিবহন শ্রমিকদের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে এ ছাড়া সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১০০ শ্রমিককে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে পর্যায়ক্রমে হয়তো আরও শ্রমিকদের সহায়তা দেওয়া হবে।

তবে শ্রমিকরা, বুধবার (১৩-মে) সকালে গণমাধ্যমকমী লিটন পাঠান কে জানান, মাধবপুর মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নে (রেজিস্ট্রেশন নং- ১৪৪০) সদস্যই আছেন ৩৫০ জন এর বাইরে এ কাজে সম্পৃক্ত শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫০০ এর বাইরেও মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন গাড়ি আরও কয়েক হাজার শ্রমিক রয়েছেন তাদের বেশিরভাগই নিত্য রোজগার করে সংসার চালান কিন্তু বর্তমানে গাড়ির চাকা বন্ধ থাকায় বন্ধ হয়ে যায় আয়ের পথ অথচ এ আয় দিয়েই বেশিরভাগ শ্রমিকের ঘরের চুলায় আগুন জ্বলে।

মাধবপুর মাইক্রোবাস সমিতির সাবেক সভাপতি রিপন মিয়া বলেন শ্রমিকের বিরাট অংশ পরিবহন বন্ধ থাকায় আজ অভুক্ত থাকছে আমাদের প্রায় ৩৫০ সদস্যসহ খেটে খাওয়া এ শ্রমিকদের বরাদ্দের জন্য আমাদের বর্তমান সভাপতি মোঃ মাসুম চৌধুরী এবং সকলের মতে উপজেলা প্রশাসন বরাবর আমরা আবেদন করতে যাচ্ছি করোনার প্রভাব শুরু হওয়া পর্যন্ত আমাদের শ্রমিক ভাইদের এখনও কোনো সহযোগিতা করা হয়নি আমরা আশা করি বাংলাদেশ সরকার শ্রমিকদের সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে দেবে।

মাধবপুর মাইক্রোবাস সমিতির সম্পাদক রোমান মিয়া বলেন, বর্তমানে জরুরি অবস্থায় দেশজুড়ে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে এখন ঘরে বসেই শ্রমিকরা দিন কাটাতে হচ্ছে সরকারি নির্দেশে ও দেশের প্রয়োজনে ঘরে থাকতে গিয়ে শ্রমিকরা কর্মহীন হওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে শ্রমিকরা আজ খাদ্যসামগ্রী সহায়তার আশায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দিকে তাকিয়ে আছেন।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসনুভা নাশতারান বলেন আমরা সম্প্রতি উপজেলার ১০০ শ্রমিককে খাদ্য সহায়তা দিয়েছি যদি আমাদের কাছে কেউ খাদ্য সহায়তার জন্য আবেদন করেন তাহলে আমরা তাদেরকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব কারণ বিচ্ছিন্নভাবে খাদ্য সহায়তা দিলে দেখা যায় একজন কয়েকবার পায় আর কেউ একেবারেই পাচ্ছে না তিনি আরও বলেন আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা শ্রমিকদের তালিকা করে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছেন এ ছাড়াও বিভিন্ন ভাবে শ্রমিকদের সহায়তা করা হচ্ছে।