Dhaka , রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বরুড়ায় পুকুরের পানিতে নিভে গেল ছোট্ট ফরাদের জীবনপ্রদীপ গোপালনগরে মধ্যরাতে মুখোশধারী ডাকাতির হানা: স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুটপাট ২০১১ সালের রায়: যে রায়ে সূচিত হয়েছিল শেখ হাসিনার পতনের পথচলা হানিফ এগ্রো ফার্মের উদ্যোগে বরুড়ায় ফাইনাল ফুটবল ম্যাচ বরুড়ায় জামায়েত ইসলামী মনোনীত প্রার্থীর মতবিনিময় দৈনিক বরুড়ার কন্ঠ প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন আবু নাছের ইয়াহিয়ার তৃতীয় জানাযা বরুড়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে স্বপ্নের গাউন পেয়ে উচ্ছ্বসিত বরুড়ার লিটল এঞ্জেল স্কুল সরকারি প্রতিষ্ঠান সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অধীনে থাকবে, প্রতিশোধ না নেওয়ার ঘোষণা বাংলাদেশের রিক্তা আক্তার বানু বিবিসির ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায়
খোশবাস বার্তা

AKH গ্রুপের পরিচালক আনিসুর রহমানের সোনালী স্মৃতিতে কেমতলী টেকনিক্যাল হাই স্কুল

  • সাকিব আল হেলাল
  • প্রকাশিতঃ ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০
  • ১৪৯১ বার পঠিত

স্মৃতির যে অধ্যায়টি আমার কাছে সবচেয়ে সুখের তা হলো আমার স্কুল জীবন। ১৯৮৭ সালে স্কুল জীবন শেষ করে করেছি। তারপরও সে সব স্মৃতি আমার জীবনের অনেকখানি জায়গা জুড়ে আছে। আমার দুরন্ত শৈশব জীবনের আর স্কুলের কথা মনে পড়লে মাঝে মাঝে মনে হয় কেন বড় হলাম। ছোট থাকাই ভালো ছিল।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে কেমতলী ট্যাকনিকেল হাই স্কুলে ভর্তি হই। নতুন স্কুল , ‍আশা ছিল অনেক বড় কিছু । বাস্থবে অনেক কঠিন যুদ্ধের মুখোমুখি হই। তবে ধীরে ধীরে সেটা আমার বাড়ির মতো আপন হয়ে উঠল।

কেমতলী ট্যাকনিকেল হাই স্কুল ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। আমিও প্রতিষ্ঠাকালীন প্রথম ছাত্র। এবং এই স্কুলটি ১৯৮৭ সালে প্রথমবারের মত এসএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহন করে ১৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে তার মধ্যে আমিও একজন। ৯জন প্রথম বিভাগসহ শতভাগ পাশ করে।

আমার স্কুল জীবনের স্মৃতি স্মরণ করতে আবেগী হয়ে যাচ্ছি। আমার জীবনের শেষ অবধি আমার স্কুলকে ভালবাসছি। আমার অনেক পুরানো সহপাঠী মিস করছি। ওদুদ(লিডার), বাসার, ইউনুস,এরশাদ, দেবোজিৎ, সালিনা, শাহীনা, টিপু, হাবিব, জয়নাল, কামাল, জাহাঙ্গীর,আলমগীর আরো অনেক আমার সহপাঠী ছিলেন।

আমদের বেশিরভাগ দিনই জুতা ছাড়াই স্কুল যেতে হত কারণ মেঝে থাকার কারণ স্কুল এর ক্লাস রুমগুলো ছিল বাশের তৈরী কাঁচা মেঝে, সাম্যান বৃষ্টি হলেই ক্লাস রুমে পানি এসে যেত ।বেশিভাগ সময় বষাকালে অতি বৃষ্টি কারনে স্কুল ছুটি দিতে হত । স্কুল পরিধী ছিল স্যামান্য ।

আমাদের অনেক শিক্ষক ছিল, বেশিরভাগ বেতন ছাড়া ছিল। আমাদের অঞ্চলের শিক্ষিত ছাত্ররা যে যখন কলেজ/ভার্সিটি ছুটি পেতো তখন তারা আমাদের স্কুলে সময় দিতেন, শিক্ষকতা করতেন। আমাদের জন্য কোনও বেতনভুক্ত শিক্ষক ছিলেন না। তারা আমাদের এক সপ্তাহ বা এক মাসের জন্য শিক্ষক হিসাবে সহায়তা করেছিলেন, আমাদের কিছু বড় ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি কালীন সময়ে শহর থেকে আসেন, তাই তারা খণ্ডকালীন শিক্ষকের জন্য যোগদান করেন । আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দিনের সময় ক্লাস এবং রাতের বেলা স্কুল রুমের জন্য মাটি কাটা, বিদ্যালয়ের ঘরের জন্য খুটি বা বাঁশ সংগ্রহ করা এবং টেবিল তৈরির জন্য কাঠ সংগ্রহ করতাম।

আমার দেখা এই স্কুলের জন্য কেমতলী গ্রামের সহযোগিতা কম বেশি সকলের অবদান রয়েছে। যাদের নেতৃত্বে কিংবা সহযোগিতায় আজকের কেমতলী টেকনিক্যাল হাই স্কুল। তাদের মধ্যে অন্যতম মরহুম চান মিয়া মাস্টার, মরহুম জনাব আঃ খালেক স্যার মরহুম হাজী ইউনুস, জনাব আবু জাফর সাদেক । প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক ও বর্তমান কেমতলী টেকনিক্যাল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক জনাব জাহাঙ্গীর আলম সহ আরও অনেকের অবদান রয়েছে। (প্রধান শিক্ষক জনাব জাহাঙ্গীর আলম এর পিতা ছিলেন মরহুম হাজী ইউনুস)
২০১৮-১৯ সালে আমি আমার বরুড়া কেমতলী টেকনিক্যাল হাইস্কুলের ম্যানেজিং সভাপতি হই। পরে কর্মব্যস্ততা কারণে সড়ে দাঁড়ায়। আমার সময়কালের ছাত্র-ছাত্রীরা ২০২০ সালে এসএসসি পরিক্ষা অংশগ্রহণ করে বরুড়াবাসীকে চমক দেখায়। এই বছরে বরুড়া কেমতলী টেকনিক্যাল হাই স্কুল বরুড়া ৪৪ টি স্কুলের মধ্যে ফলাফলে তৃতীয় হয়। সময় পেলে ছুটে যায় নিজ এলাকায় এবং ঘুরে দেখি সেই কেমতলী টেকনিক্যাল হাই স্কুল।
আমার মেয়েকে ছোটবেলা থেকে নিয়ে নিজ স্কুল যেতাম। সেখানে স্কুল জীবনের গল্প শোনাই। মেয়ে সেই গল্প শোনেই , তার বাবার ভালোবাসার স্কুলে তার ব্যবহারিত হারমনিয়াম, তবলা, ও ল্যাপটপ উপহার দিয়ে দেই যা বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীরা ব্যবহার করছে । সে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়াতে অধ্যয়নরত আছে । আপনারা সবাই তার জন্য দোয়া করবেন ।

আনিসুর রহমান
পরিচালক AKH গ্রুপ
প্রাক্তন শিক্ষার্থী, কেমতলী টেকনিক্যাল হাই স্কুল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় আপডেট

বরুড়ায় পুকুরের পানিতে নিভে গেল ছোট্ট ফরাদের জীবনপ্রদীপ

AKH গ্রুপের পরিচালক আনিসুর রহমানের সোনালী স্মৃতিতে কেমতলী টেকনিক্যাল হাই স্কুল

প্রকাশিতঃ ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০

স্মৃতির যে অধ্যায়টি আমার কাছে সবচেয়ে সুখের তা হলো আমার স্কুল জীবন। ১৯৮৭ সালে স্কুল জীবন শেষ করে করেছি। তারপরও সে সব স্মৃতি আমার জীবনের অনেকখানি জায়গা জুড়ে আছে। আমার দুরন্ত শৈশব জীবনের আর স্কুলের কথা মনে পড়লে মাঝে মাঝে মনে হয় কেন বড় হলাম। ছোট থাকাই ভালো ছিল।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে কেমতলী ট্যাকনিকেল হাই স্কুলে ভর্তি হই। নতুন স্কুল , ‍আশা ছিল অনেক বড় কিছু । বাস্থবে অনেক কঠিন যুদ্ধের মুখোমুখি হই। তবে ধীরে ধীরে সেটা আমার বাড়ির মতো আপন হয়ে উঠল।

কেমতলী ট্যাকনিকেল হাই স্কুল ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। আমিও প্রতিষ্ঠাকালীন প্রথম ছাত্র। এবং এই স্কুলটি ১৯৮৭ সালে প্রথমবারের মত এসএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহন করে ১৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে তার মধ্যে আমিও একজন। ৯জন প্রথম বিভাগসহ শতভাগ পাশ করে।

আমার স্কুল জীবনের স্মৃতি স্মরণ করতে আবেগী হয়ে যাচ্ছি। আমার জীবনের শেষ অবধি আমার স্কুলকে ভালবাসছি। আমার অনেক পুরানো সহপাঠী মিস করছি। ওদুদ(লিডার), বাসার, ইউনুস,এরশাদ, দেবোজিৎ, সালিনা, শাহীনা, টিপু, হাবিব, জয়নাল, কামাল, জাহাঙ্গীর,আলমগীর আরো অনেক আমার সহপাঠী ছিলেন।

আমদের বেশিরভাগ দিনই জুতা ছাড়াই স্কুল যেতে হত কারণ মেঝে থাকার কারণ স্কুল এর ক্লাস রুমগুলো ছিল বাশের তৈরী কাঁচা মেঝে, সাম্যান বৃষ্টি হলেই ক্লাস রুমে পানি এসে যেত ।বেশিভাগ সময় বষাকালে অতি বৃষ্টি কারনে স্কুল ছুটি দিতে হত । স্কুল পরিধী ছিল স্যামান্য ।

আমাদের অনেক শিক্ষক ছিল, বেশিরভাগ বেতন ছাড়া ছিল। আমাদের অঞ্চলের শিক্ষিত ছাত্ররা যে যখন কলেজ/ভার্সিটি ছুটি পেতো তখন তারা আমাদের স্কুলে সময় দিতেন, শিক্ষকতা করতেন। আমাদের জন্য কোনও বেতনভুক্ত শিক্ষক ছিলেন না। তারা আমাদের এক সপ্তাহ বা এক মাসের জন্য শিক্ষক হিসাবে সহায়তা করেছিলেন, আমাদের কিছু বড় ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি কালীন সময়ে শহর থেকে আসেন, তাই তারা খণ্ডকালীন শিক্ষকের জন্য যোগদান করেন । আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দিনের সময় ক্লাস এবং রাতের বেলা স্কুল রুমের জন্য মাটি কাটা, বিদ্যালয়ের ঘরের জন্য খুটি বা বাঁশ সংগ্রহ করা এবং টেবিল তৈরির জন্য কাঠ সংগ্রহ করতাম।

আমার দেখা এই স্কুলের জন্য কেমতলী গ্রামের সহযোগিতা কম বেশি সকলের অবদান রয়েছে। যাদের নেতৃত্বে কিংবা সহযোগিতায় আজকের কেমতলী টেকনিক্যাল হাই স্কুল। তাদের মধ্যে অন্যতম মরহুম চান মিয়া মাস্টার, মরহুম জনাব আঃ খালেক স্যার মরহুম হাজী ইউনুস, জনাব আবু জাফর সাদেক । প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক ও বর্তমান কেমতলী টেকনিক্যাল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক জনাব জাহাঙ্গীর আলম সহ আরও অনেকের অবদান রয়েছে। (প্রধান শিক্ষক জনাব জাহাঙ্গীর আলম এর পিতা ছিলেন মরহুম হাজী ইউনুস)
২০১৮-১৯ সালে আমি আমার বরুড়া কেমতলী টেকনিক্যাল হাইস্কুলের ম্যানেজিং সভাপতি হই। পরে কর্মব্যস্ততা কারণে সড়ে দাঁড়ায়। আমার সময়কালের ছাত্র-ছাত্রীরা ২০২০ সালে এসএসসি পরিক্ষা অংশগ্রহণ করে বরুড়াবাসীকে চমক দেখায়। এই বছরে বরুড়া কেমতলী টেকনিক্যাল হাই স্কুল বরুড়া ৪৪ টি স্কুলের মধ্যে ফলাফলে তৃতীয় হয়। সময় পেলে ছুটে যায় নিজ এলাকায় এবং ঘুরে দেখি সেই কেমতলী টেকনিক্যাল হাই স্কুল।
আমার মেয়েকে ছোটবেলা থেকে নিয়ে নিজ স্কুল যেতাম। সেখানে স্কুল জীবনের গল্প শোনাই। মেয়ে সেই গল্প শোনেই , তার বাবার ভালোবাসার স্কুলে তার ব্যবহারিত হারমনিয়াম, তবলা, ও ল্যাপটপ উপহার দিয়ে দেই যা বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীরা ব্যবহার করছে । সে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়াতে অধ্যয়নরত আছে । আপনারা সবাই তার জন্য দোয়া করবেন ।

আনিসুর রহমান
পরিচালক AKH গ্রুপ
প্রাক্তন শিক্ষার্থী, কেমতলী টেকনিক্যাল হাই স্কুল।