Dhaka , রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বরুড়ায় পুকুরের পানিতে নিভে গেল ছোট্ট ফরাদের জীবনপ্রদীপ গোপালনগরে মধ্যরাতে মুখোশধারী ডাকাতির হানা: স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুটপাট ২০১১ সালের রায়: যে রায়ে সূচিত হয়েছিল শেখ হাসিনার পতনের পথচলা হানিফ এগ্রো ফার্মের উদ্যোগে বরুড়ায় ফাইনাল ফুটবল ম্যাচ বরুড়ায় জামায়েত ইসলামী মনোনীত প্রার্থীর মতবিনিময় দৈনিক বরুড়ার কন্ঠ প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন আবু নাছের ইয়াহিয়ার তৃতীয় জানাযা বরুড়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে স্বপ্নের গাউন পেয়ে উচ্ছ্বসিত বরুড়ার লিটল এঞ্জেল স্কুল সরকারি প্রতিষ্ঠান সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অধীনে থাকবে, প্রতিশোধ না নেওয়ার ঘোষণা বাংলাদেশের রিক্তা আক্তার বানু বিবিসির ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায়
খোশবাস বার্তা

আগানগর এ ক্রয়কৃত জমিতে ঘর নির্মান করে মিথ্যা মামলার শিকার প্রবাসীর পরিবার , আটক ১

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ১নং আগানগর ইউনিয়নের মির্জানগর গ্রামের ওমান প্রবাসী বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী আমেনা বেগম পাশের বাড়ির আলী আশ্রাফসহ তার তিন ছেলে ও কাঠ মিস্ত্রি দীপকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করার অভিয়োগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। 

গত ২৭ মে (বুধবার) সকালে আলী আশ্রাফের পুত্রদের ক্রয়কৃত জমিতে ঘর তৈরি করে। তাতে বাঁধা সৃষ্টি করে প্রতিবেশী প্রবাসী বিল্লাল হোসেনর স্ত্রী আমেনা বেগম। পরে তাদের বাঁধা দিয়ে প্রতিরোধ করতে না পেরে বরুড়ায় থানায় আমেনা বেগম বাদী হয়ে আমির হোসেন, মনির হোসেন,কবির হোসেন,আলী আশ্রাফ, কাঠ মিস্ত্রী দীপকসহ মোট পাঁজজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামী আমির হোসেনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরন করেন।

ঘটনার সূত্র ও সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,বাদী বিল্লাল অনেক সম্পতির মালিক ছিলেন। তারা তিন বোন এক ভাই। বিল্লালের পিতার মৃত্যুর পর বিল্লাল সকল সম্পতি বিক্রি করে দিলে তার তিন বোন বাবার সম্পতি দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। বিল্লাল যেহুতু বসত ভিটে ছাড়া অন্যান্যে সকল সম্পতি বিক্রি করে দিয়েছেন। সেহুতু নিয়মমত অবশিষ্ট জায়গা অর্থাৎ বসত ভিটের জমিতে পাওনা হবেন। সে ক্ষেত্রে বিল্লালের সাথে বনিবনা না হওয়ায় প্রতিবেশি আলী আশ্রাফের পুত্রদের কাছে বিল্লালের এক বোনের পাওনা ১৪ শতাংশ জমি বিক্রি করে দেন ।বিল্লালের পরিবার অর্থাৎ বিল্লালসহ তার স্ত্রী আমেনা বেগম বিষয়টি মানতে নারাজ তারা ২০০৮ সালে এ বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন।বাদী পক্ষ আমেনা বেগম বলেন,২০০৯ সালে মামলায় তাদের পক্ষ রায় দিয়ে জমি দখলের নির্দেশ দিয়েছিল। অপর দিকে বিবাদী পক্ষ অর্থাৎ আলী আশ্রাফের পরিবারের লোকজন জানান,২০০৯ সালে আদালত উক্ত মামলাটি খারিজ করে দিয়েছিল। এখন দুই পক্ষ জমি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
উল্লেখ্য,গত ২৭ মে(বুধবার) সকালে আলী আশ্রাফের পরিবারের লোকজন বিল্লাল হোসেনের বোন থেকে ক্রয়কৃত ১৪ শতাংশ জমি দখলের উদ্দেশ্যে ঘর নির্মান করেন।এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিল্লাল হোসেনর স্ত্রী আমেনা বেগম পাঁচজনকে আসামী করে বরুড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে মামলার আসামী আমির হোসেনকে আটক করেছে বরুড়া থানা পুলিশ।

এ বিষয়ে বাদী আমেনা বেগম বলেন,আমাদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন মামলা চলছে।আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে কিন্তু তারা আদালতের রায়কে অমান্য করে আমার বসতঘরে জোর করে ঘর নির্মান করেছে।আমি চাই তারা যদি সত্যিকারে জমি কিনে থাকে তাহলে শালিশে বসুক।যদি তারা সঠিক কাগজপত্র দেখাতে পারে তাহলে আমি যেকোন সিদ্ধান্ত মেনে নিবো”।

এ দিকে বিবাদী আলী আশ্রাফের পরিবারের লোকজন বলেন,আমরা টাকা দিয়ে জমি কিনেছি বিল্লালের অসহায় বোনের কাছ থেকে। আমাদের কাছে সঠিক কাগজপত্র আছে।তারা এ নিয়ে ২০০৮ সালে মামলাও করেছে কিন্তু মামলার সত্যেতা না পেয়ে ২০০৯ সালে বিজ্ঞ আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে।আমরা ঝামেলা চাই না। আমরা চাই প্রয়োজন হলে শালিশি বৈঠকে বসুক। কাগজপত্র দেখে সত্য মিথ্যা যাচাই করে যে রায় হবে আমরা তা মেনে নিবো”।

এ বিষয়ে বরুড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সত্যজিৎ বড়ুয়া বলেন,আমেনা বেগম থানায় আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ একজনকে আটক করেছেন”।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় আপডেট

বরুড়ায় পুকুরের পানিতে নিভে গেল ছোট্ট ফরাদের জীবনপ্রদীপ

আগানগর এ ক্রয়কৃত জমিতে ঘর নির্মান করে মিথ্যা মামলার শিকার প্রবাসীর পরিবার , আটক ১

প্রকাশিতঃ ১১:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২০

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ১নং আগানগর ইউনিয়নের মির্জানগর গ্রামের ওমান প্রবাসী বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী আমেনা বেগম পাশের বাড়ির আলী আশ্রাফসহ তার তিন ছেলে ও কাঠ মিস্ত্রি দীপকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করার অভিয়োগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। 

গত ২৭ মে (বুধবার) সকালে আলী আশ্রাফের পুত্রদের ক্রয়কৃত জমিতে ঘর তৈরি করে। তাতে বাঁধা সৃষ্টি করে প্রতিবেশী প্রবাসী বিল্লাল হোসেনর স্ত্রী আমেনা বেগম। পরে তাদের বাঁধা দিয়ে প্রতিরোধ করতে না পেরে বরুড়ায় থানায় আমেনা বেগম বাদী হয়ে আমির হোসেন, মনির হোসেন,কবির হোসেন,আলী আশ্রাফ, কাঠ মিস্ত্রী দীপকসহ মোট পাঁজজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামী আমির হোসেনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরন করেন।

ঘটনার সূত্র ও সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,বাদী বিল্লাল অনেক সম্পতির মালিক ছিলেন। তারা তিন বোন এক ভাই। বিল্লালের পিতার মৃত্যুর পর বিল্লাল সকল সম্পতি বিক্রি করে দিলে তার তিন বোন বাবার সম্পতি দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। বিল্লাল যেহুতু বসত ভিটে ছাড়া অন্যান্যে সকল সম্পতি বিক্রি করে দিয়েছেন। সেহুতু নিয়মমত অবশিষ্ট জায়গা অর্থাৎ বসত ভিটের জমিতে পাওনা হবেন। সে ক্ষেত্রে বিল্লালের সাথে বনিবনা না হওয়ায় প্রতিবেশি আলী আশ্রাফের পুত্রদের কাছে বিল্লালের এক বোনের পাওনা ১৪ শতাংশ জমি বিক্রি করে দেন ।বিল্লালের পরিবার অর্থাৎ বিল্লালসহ তার স্ত্রী আমেনা বেগম বিষয়টি মানতে নারাজ তারা ২০০৮ সালে এ বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন।বাদী পক্ষ আমেনা বেগম বলেন,২০০৯ সালে মামলায় তাদের পক্ষ রায় দিয়ে জমি দখলের নির্দেশ দিয়েছিল। অপর দিকে বিবাদী পক্ষ অর্থাৎ আলী আশ্রাফের পরিবারের লোকজন জানান,২০০৯ সালে আদালত উক্ত মামলাটি খারিজ করে দিয়েছিল। এখন দুই পক্ষ জমি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
উল্লেখ্য,গত ২৭ মে(বুধবার) সকালে আলী আশ্রাফের পরিবারের লোকজন বিল্লাল হোসেনের বোন থেকে ক্রয়কৃত ১৪ শতাংশ জমি দখলের উদ্দেশ্যে ঘর নির্মান করেন।এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিল্লাল হোসেনর স্ত্রী আমেনা বেগম পাঁচজনকে আসামী করে বরুড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে মামলার আসামী আমির হোসেনকে আটক করেছে বরুড়া থানা পুলিশ।

এ বিষয়ে বাদী আমেনা বেগম বলেন,আমাদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন মামলা চলছে।আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে কিন্তু তারা আদালতের রায়কে অমান্য করে আমার বসতঘরে জোর করে ঘর নির্মান করেছে।আমি চাই তারা যদি সত্যিকারে জমি কিনে থাকে তাহলে শালিশে বসুক।যদি তারা সঠিক কাগজপত্র দেখাতে পারে তাহলে আমি যেকোন সিদ্ধান্ত মেনে নিবো”।

এ দিকে বিবাদী আলী আশ্রাফের পরিবারের লোকজন বলেন,আমরা টাকা দিয়ে জমি কিনেছি বিল্লালের অসহায় বোনের কাছ থেকে। আমাদের কাছে সঠিক কাগজপত্র আছে।তারা এ নিয়ে ২০০৮ সালে মামলাও করেছে কিন্তু মামলার সত্যেতা না পেয়ে ২০০৯ সালে বিজ্ঞ আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে।আমরা ঝামেলা চাই না। আমরা চাই প্রয়োজন হলে শালিশি বৈঠকে বসুক। কাগজপত্র দেখে সত্য মিথ্যা যাচাই করে যে রায় হবে আমরা তা মেনে নিবো”।

এ বিষয়ে বরুড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সত্যজিৎ বড়ুয়া বলেন,আমেনা বেগম থানায় আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ একজনকে আটক করেছেন”।