1. megatechcdf@gmail.com : Mega Tech Career Development Foundation : Mega Tech Career Development Foundation
  2. noorazman152@gmail.com : নূর আজমান : নূর আজমান
  3. asifiqballimited@gmail.com : Asif Iqbal : Asif Iqbal
  4. khansajeeb45@gmail.com : সজিব খান : সজিব খান
  5. naeemnewsss@gmail.com : সাকিব আল হেলাল : সাকিব আল হেলাল
  6. khoshbashbarta@gmail.com : ইউনুছ খান : ইউনুছ খান
না ফেরার দেশে চলে গেলেন এন্ড্রু কিশোর (১৯৫৫-২০২০) - খোশবাস বার্তা
রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ০১:০৭ অপরাহ্ন
খোশবাস বার্তা

না ফেরার দেশে চলে গেলেন এন্ড্রু কিশোর (১৯৫৫-২০২০)

মেহেদী হাসান | ঢাকা |
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২০
  • ২৫৯ বার পঠিত
এন্ড্রু কিশোর (১৯৫৫-২০২০)
না ফেরার দেশে চলে গেলেন এন্ড্রু কিশোর (১৯৫৫-২০২০)

মরণঘাতী ক্যান্সারের সাথে দীর্ঘ দীর্ঘ ১০ মাস লড়াই চালিয়ে মারা গেছেন দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর। আজ সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে জন্মস্থান রাজশাহীতে বোন-দুলাভাইয়ের ক্লিনিকে  শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এ প্লে-ব্যাক সম্রাট। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তাঁর মৃত্যুতে দেশের সংগীত অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এন্ড্রু কিশোর তার গানের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসারত অবস্থায় তিনি নিজের ইচ্ছায় দেশে ফিরতে চেয়েছেন। বলেছিলেন, ‘আমি আমার দেশে গিয়ে মরতে চাই, এখানে নয়।’গত ১১ জুন বিকেলে সিঙ্গাপুর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে দেশে ফেরেন তাঁরা। ফিরে যান রাজশাহীতে, যেখান থেকে শুরু।

শরীরে নানা ধরনের জটিলতা নিয়ে অসুস্থ অবস্থায় গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছিলেন এন্ড্রু কিশোর। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁর শরীরে নন-হজকিন লিম্ফোমা নামের ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়ে। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক লিম সুন থাইয়ের অধীনে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। সেখানে কয়েক মাস একনাগাড়ে তাঁর চিকিৎসা চলে। সব চেষ্টার ব্যর্থ করে আজ চিরতরে বিদায় নেন তিনি।

এন্ড্রু কিশোরের এক ছেলে ও এক মেয়ে। তারা দু’জনই অস্ট্রেলিয়া থাকেন। মেয়ে মিনিম এন্ড্রু সংজ্ঞা সিডনিতে গ্রাফিক ডিজাইন ও ছেলে জে এন্ড্রু সপ্তক মেলবোর্নে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে পড়াশোনা করছেন। বাবার সঙ্গে তাদের সব সময়ই যোগাযোগ ছিল।

দু’দিন ধরে বাবার পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তারা। করোনা–পরিস্থিতির কারণে বিশেষ ফ্লাইটের টিকিট পাওয়াটা কষ্টসাধ্য। সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছিলেন তারা। দু’জন অস্ট্রেলিয়ার দুই স্টেটে থাকেন। কে আগে টিকিট পাচ্ছেন, কে-কীভাবে আসবেন এসব সুরাহার হতে হতে চলে গেলেন বাবা এন্ড্রু কিশোর। শেষ সময়ে বাবার পাশে থাকতে পারলেন না তারা।

বাংলা গানের এই কণ্ঠশিল্পী ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ নামে পরিচিত। বাংলাদেশের আধুনিক ও চলচ্চিত্রজগতের কালজয়ী অনেক গান তাঁর কণ্ঠে সমৃদ্ধ হয়েছে। সুখ-দুঃখ, হাসি-আনন্দ, প্রেম-বিরহ—সব অনুভূতির গানই তিনি গেয়েছেন। ১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর তিনি রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। সেখানেই তিনি বেড়ে উঠেছেন। পড়াশোনা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে।

চলচ্চিত্রে এন্ড্রু কিশোর গান গাওয়া শুরু করেন ১৯৭৭ সালে। ছবির নাম ‘মেইল ট্রেন’। পরিচালক শিবলী সাদিক। এই ছবিতে তিনি গেয়েছিলেন ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানটি। চলচ্চিত্রে এটাই ছিল তাঁর প্রথম গান। সুরকার ও সংগীত পরিচালক ছিলেন আলম খান। কিন্তু এন্ড্রু কিশোর সবার কাছে পৌঁছে যান দুই বছর পর। তাঁর এই গান ছিল ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’। মনিরুজ্জামান মনিরের লেখা গানটির সুরকার ও সংগীত পরিচালক ছিলেন আলম খান।

মাঝে কিছুদিন ব্যবসাও করেছিলেন। ১৯৮৭ সালে এন্ড্রু কিশোর আহমাদ ইউসুফ, আনোয়ার হোসেন বুলু, ডলি জহুর প্রমুখের সঙ্গে টিভি নাটক, বাণিজ্যিক এবং অন্যান্য প্রযোজনার জন্য ‘প্রবাহ’ নামে একটি বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠান শুরু করেন।

২০১৯ এর সেপ্টম্বর মাসে অসুস্থ হয়ে পড়ার আগপর্যন্ত এন্ড্রু কিশোর প্লেব্যাক ও স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। আলম খানের সুর-সংগীতে গেয়েছেন প্রয়াত সব্যসাচী লেখক ও কবি সৈয়দ শামসুল হকের লেখা শেষ তিনটি গান। এন্ড্রু কিশোর দেশের প্রখ্যাত সুরকারদের মধ্যে বেশি গান করেছেন আলম খান, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, আলাউদ্দিন আলীর সঙ্গে। এ ছাড়া গান করেছেন শেখ সাদী খান, ইমন সাহা, আলী আকরাম শুভসহ অনেকের সঙ্গে। ভারতের প্রখ্যাত সুরকার আর ডি বর্মনের সুরেও গান গেয়েছেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে কলকাতাতেও প্লেব্যাকে বেশ কয়েকটি গান করেছেন।

ছবি: এন্ড্রু কিশোর

এন্ড্রু কিশোরের সবচেয়ে জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘হায় রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যিখানে’, ‘তুমি যেখানে আমি সেখানে’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’, ‘চাঁদের সাথে আমি দেব না তোমার তুলনা’, ‘বেদের মেয়ে জোসনা আমায় কথা দিয়েছে’, ‘তুমি আমার জীবন আমি তোমার জীবন’, ‘ভালো আছি ভালো থেকো’, ‘ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা’, ‘ভালোবেসে গেলাম শুধু ভালোবাসা পেলাম না’, ‘তুমি আমার কত চেনা’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’, ‘তোমায় দেখলে মনে হয়’, ‘এইখানে দুজনে নিরজনে’সহ অনেক গান। জীবনের বেশির ভাগ সময়ে মূলত চলচ্চিত্রে গান করেই কাটিয়েছেন। চলচ্চিত্রের এতটাই ব্যস্ত ছিলেন যে অডিও বাজারে খুব একটা অ্যালবাম করেননি। চলচ্চিত্রের বাইরে এসে প্রথম দিকে তিনি ‘ইত্যাদি’তে গান করেন ‘পদ্মপাতার পানি নয়’, যা বেশ জনপ্রিয়তা পায়।

এন্ড্রু কিশোরের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর আগে এন্ড্রু কিশোর বলে গিয়েছেন তাকে যেনো মায়ের কবরের পাশেই যেন সমাহিত করা হয়। সেই ইচ্ছানুযায়ী মায়ের পাশেই তাকে সমাহিত করা হবে। তবে কখন সেটা এখনো ঠিক করা হয়নি।

খোশবাস বার্তা

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

অনলাইন জরিপ

স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে ঈদুল আজহার পশুর হাট বসা সম্ভব বলে মনে করেন কি?

ফলাফল দেখুন

Loading ... Loading ...
corona safety
সত্বাধিকার © খোশবাস বার্তা ২০১৬- ২০২০
ডেভেলপ করেছেন : TechverseIT
themesbazar_khos5417