1. megatechcdf@gmail.com : Mega Tech Career Development Foundation : Mega Tech Career Development Foundation
  2. noorazman152@gmail.com : নূর আজমান : নূর আজমান
  3. asifiqballimited@gmail.com : Asif Iqbal : Asif Iqbal
  4. khansajeeb45@gmail.com : সজিব খান : সজিব খান
  5. naeemnewsss@gmail.com : সাকিব আল হেলাল : সাকিব আল হেলাল
  6. khoshbashbarta@gmail.com : ইউনুছ খান : ইউনুছ খান
ইতিকাফ : ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত - খোশবাস বার্তা
বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১০:৫১ পূর্বাহ্ন
খোশবাস বার্তা

ইতিকাফ : ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত

ড. আ. ম. কাজী মুহাম্মদ হারুন উর রশীদ
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২০
  • ১২১ বার পঠিত
খোশবাস বার্তা

ইতিকাফ সুন্নাতে কিফায়া। ফরজে কিফায়া এবং ওয়াজিবে কিফায়ার যে হুকুম; ঠিক তেমনি সুন্নাতে কিফায়ার হুকুমও। যদি কেউই এ সুন্নাতে কিফায়া আদায় না করে তাহলে সকলেই গুণাহগার হবে। আর যদি শহর বা মহল্লার কোন একজন তা আদায় করে দেয় তাহলে সকলের পক্ষে আদায় হয়ে যাবে।

ইতিকাফ আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো অবস্থান করা, কোন বস্তুর ওপর স্থায়ীভাবে থাকা। শরিয়তের পরিভাষায়- ইতিকাফের নিয়তে পুরুষের ঐ মসজিদে অবস্থান করা যেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতের সাথে আদায় করা হয় অথবা কোন মহিলার নিজ ঘরে নামাজের স্থানে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলা হয়। ইতিকাফের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো দুনিয়ার সবরকম ঝামেলা থেকে নিজেকে মুক্ত করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের নিমিত্তে একমাত্র তাঁরই ইবাদতে মশগুল থাকা। ইতিকাফকারী পুরুষ ও মহিলা বহু ধরনের গুণাহ থেকে বেঁচে থাকতে পারে।
ইতিকাফ শুধু রাসুল(সা.)-এর যুগেই ছিল না, পূর্ববর্তী নবী রাসুলগণের উম্মতদের মধ্যেও পালিত হতো। কিন্তু আগেকার নবীগণের বেলায় ইতিকাফের কি নিয়ম-কানুন ছিল সে সম্পর্কে বিস্তারিত তেমন কিছু জানা যায় না। তবে হযরত দাউদ (আ.) ও হযরত মুসা (আ.) সহ আরো কিছু কিছু নবী এবং তাঁদের উম্মতদের জীবনী থেকে ইতিকাফের মোটামুটি সন্ধান পাওয়া যায়। শুধু তাই নয় বিধর্মীদের মধ্যেও ইতিকাফের নিয়ম ছিল বলে হাদিসের বিভিন্ন গ্রন্থে তথ্য পাওয়া যায়। হযরত উমর (রা.) একদিন রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন- ইয়া রাসুলাল্লাহ (সা.)! আমি জাহেলি যুগে মসজিদুল হারামে এক রাত ইতিকাফের মানত করেছিলাম। তখন রাসুল (সা.) বললেন- তোমরা মানত পুরা করে নাও। এ হাদিস দ্বারা বুঝা যায়, হযরত উমর (রা.) অমুসলিম থাকা অবস্থায় ইতিকাফের মানত করেছিলেন। সুতরাং ইতিকাফের এ নিয়ম তাঁদের মধ্যেও চালু ছিল। পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, আমি ইবরাহিম ও ইসমাঈলকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম যে, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকুকারী-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র কর। -(সূরা বাকারা, আয়াত: ১২৫)। এ আয়াতের দ্বারাও ইতিকাফের সন্ধান পাওয়া যায়। রাসুল (সা.)-এর যুগের আগের ইতিকাফ ছিল অন্য ধরনের এবং অন্য উদ্দেশ্যে। কিন্তু ইসলাম ইতিকাফকে প্রথাগত চালু না রেখে খালেছ ইবাদতে পরিণত করেছেন এবং অন্যান্য ইবাদতের মতোই ইতিকাফের জন্যে বিভিন্ন ধরনের শর্ত আরোপ করেছেন।
ইতিকাফ একটি পবিত্র এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত বলেই রাসুল(সা.) নিজেও আগ্রহের সাথে ইতিকাফ করতেন এবং সাহাবীগণকে ইতিকাফ করতে উদ্বুদ্ধ করতেন। হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি বছর রমজান মাসের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন। ইন্তেকাল পর্যন্ত এ আমল অব্যাহত ছিল। তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর পবিত্র বিবিগণ ইতিকাফ করেছেন।-(বুখারি ও মুসলিম)। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রসুলুল্লাহ(সা.)প্রত্যেক রমজানে দশদিন ইতিকাফ করতেন; কিন্তু যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেছেন, সে বছর বিশ দিন ইতিকাফ করেছেন। -(বুখারি)। হযরত উবাই ইব্‌ন কাব (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সা.) রমজানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করতেন; কিন্তু এক বছর তিনি ইতিকাফ করেননি। এ জন্যে পরের বছর বিশদিন ইতিকাফ করেছেন। -(আবু দাউদ)। রাসুল (সা.) বলেছেন, ইতিকাফকারী ব্যক্তি যাবতীয় গুণাহ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখে এবং তার জন্যে পুণ্যসমূহ জারি রাখা হয়। অন্য এক হাদিস এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন -যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় একদিন ইতিকাফ করবে, আল্লাহ তার এবং জাহান্নামের মধ্যে তিনটি গহ্বর সৃষ্টি করবেন। যার দূরত্ব আসমান ও যমীনের দূরত্ব অপেক্ষা অধিক হবে। রাসুল (সা.) আরো বলেছেন- যে ব্যক্তি রমজানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করবে সে যেন দু’টি হজ্ব এবং দু’টি উমরার সাওয়াব লাভ করবে। -(বায়হাকী)।
ইতিকাফ অবস্থায় অনেক কিছু বর্জন করতে হয় এবং অনেক কিছুর ওপর আমল করতে হয়। আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল করিমে বলেছেন- ওয়ালা তুবাশিররুহুন্না ওয়া আনতুম আকিফুনা ফিল মাসাজিদ। অর্থাৎ, তোমরা ইতিকাফ অবস্থায় পত্মীদের সাথে মেলামেশা করো না- (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৭) । হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রোগীকে দেখতে যাবে না। মসজিদ ছাড়া অন্য কোন স্থানে অবস্থান করবে না। স্ত্রীকে স্পর্শ করবে না। কোন প্রয়োজনে বাইরে যাবে না। তবে পায়খানা প্রস্রাবের জন্যে যেতে পারবে। রোজা ছাড়া ইতিকাফ হয় না। যে মসজিদে জামায়াত হয় সে মসজিদেই ইতিকাফ করবে। -(বায়হাকী)। ইতিকাফ অবস্থায় অনর্থক গল্প করলেও ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইতিকাফের কয়েকটি শর্ত রয়েছে। ১. নিয়ত করা। নিয়ত ছাড়া ইতিকাফ করলে ইতিকাফ শুদ্ধ হবে না। ২. পুরুষদের জন্যে এ রকম মসজিদ হতে হবে, যেখানে জামায়াতের সাথে নামাজ আদায় করা হয়। তবে নফল ইতিকাফ যে কোন মসজিদেই হতে পারে। মহিলাগণ নিজেদের ঘরের নামাজের স্থানে ইতিকাফ করবে। তারা প্রয়োজন ছাড়া এ স্থান থেকে বের হবে না। ৩. রোজা রাখা। তবে নফল ইতিকাফের জন্যে রোজা রাখা শর্ত নয়। ৪. মুসলিম হওয়া। কেননা, কোন অমুসলিম ব্যক্তি ইবাদতের যোগ্যতা রাখে না। ৫. জ্ঞানবান হওয়া। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া ইতিকাফ শুদ্ধ হওয়ার জন্যে শর্ত নয়। এ জন্যে জ্ঞানবান অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালক-বালিকার ইতিকাফও শুদ্ধ হবে; যেমনিভাবে তাদের নামাজ ও রোজা দুরস্ত হয়। ৬. নারী-পুরুষ সকলের গোসল ফরজ হয় এমন অপবিত্রতা থেকে এবং নারীদের হায়িজ-নিফাস থেকে পবিত্র হওয়া। -(ফাতওয়ায়ে আলমগিরী, ১ম খণ্ড)।
ইতিকাফ তিন প্রকার: ১. ওয়াজিব ২. সুন্নাত ৩. নফল ইতিকাফ। ১. ওয়াজিব ইতিকাফ: ইতিকাফ ওয়াজিব হয় মানত করলেই। কোন কিছুর জন্যে মানত করলে উক্ত মানত শর্তবিশিষ্ট হোক অথবা শর্তবিহীন হোক ইতিকাফ করা ওয়াজিব। মানতের ইতিকাফ শুদ্ধ হওয়ার জন্যে রোজা শর্ত। কেউ যদি মানত করে রোজা রাখা ছাড়া আমি এক মাস ইতিকাফ করব। তারপরেও তার ইতিকাফ আদায়কালে রোজা রাখতে হবে। তবে মানত শুদ্ধ হওয়ার জন্যে মানতের কথা মুখে উচ্চারণ করা জরুরি। মনে মনে নিয়ত করার দ্বারা মানত হয় না। -(বাহরুর রায়েক, ২য় খণ্ড)। ২. সুন্নাত ইতিকাফ: রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ। যা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা কিফায়া। শহর বা মহল্লার কোন একজন তা আদায় করলেই বাকীদের উপর থেকে দায়মুক্ত হয়ে যাবে। ৩. নফল ইতিকাফ: এই ইতিকাফের জন্যে কোন সময় নির্ধারিত নেই। যে কোন সময় করা যেতে পারে। রোজারও প্রয়োজন নেই। আর সময়ের কোন ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। এক মিনিটের জন্যেও ইতিকাফ করা যায়। দিনে বা রাতে যে পরিমাণ সময়ের জন্যে ইচ্ছে নিয়ত করে ইতিকাফ করা যাবে। যদি কেউ মসজিদে প্রবেশ করে ইতিকাফের নিয়তে, তাহলে সে যতক্ষণ মসজিদে অবস্থান করবে ততক্ষণ ইতিকাফের সাওয়াব পাবে। আর এ অবস্থায় মসজিদে পানাহার ও নিন্দ্রা জায়েজ হয়ে যাবে।
ইতিকাফকারী ব্যক্তি শরয়ি প্রয়োজন এবং মানবীয় প্রয়োজন ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে মসজিদের বাইরে গেলে ইতিকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে। শরয়ি প্রয়োজন যেমন-জুমুআর নামাজের জন্যে বের হওয়া। মানবীয় প্রয়োজন যেমন: মল-মূত্র ত্যাগ করার জন্যে যাওয়া। মহিলাগণ যদি ইতিকাফের জন্যে নির্দিষ্ট স্থান থেকে ঘরের অন্যত্র যায় তাহলে ইতিকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে। (ফাতওয়া আলমগিরী, ১ম খন্ড)। প্রয়োজন পূর্ণ হওয়ার পর অল্প সময় মসজিদের বাইরে থাকলেও ইতিকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে। ইচ্ছাকৃত বা ভুল বের হলেও এ হুকুম প্রযোজ্য হবে। -(ফাতওয়া আলমগিরি, ১ম খন্ড)। আর ইতিকাফকারী ব্যক্তি রোগীর সেবা করার জন্যে মসজিদ থেকে বের হবে না। ইতিকাফ অবস্থায় স্ত্রী সঙ্গম বা এর আনুষঙ্গিক কার্যাবলী যেমন-চুম্বন, স্পর্শ ও আলিঙ্গন ইত্যাদি কাজসমূহ করা হারাম। এ কাজসমূহের দ্বারা ইতিকাফ ভঙ্গ হয়ে গেলে তা পরবর্তীতে যথানিয়মে কাজা করে দিতে হবে।
ইতিকাফ অবস্থায় অধিক ইবাদত করা প্রয়োজন। সবসময় কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, তাসবিহ-তাহলির, হাদিস, তাফসির, উমরি কাজা নামাজের জন্যেও ইতিকাফ একটি উত্তম সময়। তবে অনর্থক কথাবার্তা মোটেই সমীচীন নয়। প্রখ্যাত আরবি দার্শনিক আল্লামা ইব্‌ন হুমাম ‘ফাতহুল কাদির’ গ্রন্থে লিখেছেন, মসজিদে প্রয়োজনহীন আলাপে নেকসমূহ এমনিভাবে খেয়ে ফেলে; যেমনি করে আগুন জলন্ত কাঠকে খেয়ে ফেলে। আসুন, আল্লাহপাক আমাদেরকে সঠিকভাবে ইতিকাফ করার তওফিক দান করুন। আমীন।

লেখক : অধ্যাপক, আরবি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

খোশবাস বার্তা

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

অনলাইন জরিপ

দেশে নদী রক্ষার আইন আছে, কিন্তু শক্ত বাস্তবায়ন নেই—জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সদস্য শারমীন মুরশিদের এ বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?

Loading ... Loading ...
corona safety
সত্বাধিকার © খোশবাস বার্তা ২০১৬- ২০২১
ডেভেলপ করেছেন : TechverseIT
themesbazar_khos5417